বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজন

বাংলা সাহিত্যের যুগ

📒বাংলা সাহিত্যের যুগ তিনটি ভাগে বিভক্ত:

১. আদিযুগ (৬৫০-১২০০ খ্রী:)

২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রী:)

৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রী: -বর্তমান)

➡️অন্ধকার যুগঃ ১২০১-১৩৫০ খ্রী।

➡️আধুনিক বাংলা ভাষার পরিধি শুরু হয়েছে—–১৮০১ সাল থেকে।

প্রস্তুতিপর্বঃ ১৮০০-১৮৬০,

বিকাশপর্বঃ ১৮৬০-১৯০০,

রবীন্দ্রপর্বঃ ১৯০০-১৯৩০,

রবীন্দ্রোত্তরঃ ১৯৩০-১৯৪৭

বাংলাদেশঃ ১৯৪৭-বর্তমান

📒আদি যুগঃ

➡️বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের ব্যাপ্তিকালঃ ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রী।

➡️খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত চর্যা পদাবলি ছিল সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত

➡️খনার বচন বাংলা সাহিত্যেরঃ আদি যুগের সৃষ্টি

➡️খনার বচন আলোকপাত করেঃ কৃষি সংক্রান্ত বিষয়ে

➡️“আপণা মাংসে হরিণা বৈরী” লিখেছেনঃ ভুসুকুপা

➡️সান্ধভাষার প্রয়োগ দেখা যায়ঃ চর্যাপদে

➡️Origin and Development of Bengali Language বা ODBL বা “বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ” গ্রন্থটির লেখকঃ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যয়

📒চর্যাপদঃ

➡️বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শনের নামঃ চর্যাপদ

➡️বাংলা সাহিত্যের প্রখম কবিতা সংকলনের নামঃ চর্যাপদ

➡️চর্যা শব্দের অর্থঃ আচরন

➡️চর্যাপদের অপর নামসমূহঃ চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, চর্যাগীতিকোষ, চর্যাগীতি

➡️চর্যাপদ নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেনঃ ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

➡️ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধিঃ মহামহোপাধ্যয়

➡️চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়ঃ ১৯০৭ সালে

➡️চর্যাপদ গ্রন্থে মোট পদ পাওয়া গেছেঃ সাড়ে ছিচল্লিশটি

➡️চর্যাপদের খন্ডিত আকারে পাওয়া যায়ঃ ২৩ নং পদ

➡️চর্যাপদের পদ পাওয়া যায়নিঃ ২৪, ২৫, ৪৮

➡️বাংলা সাহিত্যের আদি কবিঃ লুইপা

➡️চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেনঃ কাহ্নপা

➡️চর্যাপদের আধুনিকতম পদকর্তাঃ সরহ বা ভুসুকু

➡️চর্যাপদের বাঙালি পদকর্তাঃ শবরপা

➡️চর্যাপদের একমাত্র নারী পদকর্তাঃ  কুক্কুরীপা

➡️ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকালঃ ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ

➡️অধিকাংশের মতে চর্যাপদের রচনাকালঃ ৯৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ

➡️ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের পদ সংখ্যাঃ ৫০ টি

➡️সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদ সংখ্যাঃ ৫১ টি

➡️ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের পদকর্তাঃ ২৩ জন

➡️সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদকর্তাঃ ২৪ জন

➡️ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের প্রথম পদকর্তাঃ শবরপা

➡️অধিকাংশের মতে চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতাঃ লুইপা

➡️বৈষ্ণব পদাবলী (মধ্যযুগের গীতিকবিতা)-

➡️রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির  সৃষ্টি।অর্থাৎ বৈষ্ণব পদাবলীতেও ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’র মত বৈষব তত্ত্বের গুঢ় রহস্য কথা  আলোচিত হয়েছে। তবে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য  রাধা- কৃষ্ণকে নিয়ে বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ১৩ খণ্ডে বিভক্ত ৪১৮টি পদ সংবলিত বিশাল এক কাহিনি কাব্য। কিন্তু  বৈষ্ণব  পদাবলী(পদ=কবিতা,পদাবলী =কবিতাবলি) রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে রচিত বিভিন্ন  কবির কিছু খণ্ড কবিতা(স্বল্প দৈর্ঘের কবিতা)।

➡️ বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা- কৃষ্ণের মানবিক আবেদন ফুটে উঠেছে।

➡️ বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি চণ্ডীদাস। তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি  – “সবার  উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।“ “সই, কেবা শুনাইল শ্যাম নাম?” “সই,  কেমনে ধরিব হিয়া,আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়, আমার আঙিনা দিয়া।“

➡️ পদাবলীর আরেকজন বিখ্যাত কবি হলেন বিদ্যাপতি। তিনি মিথিলার রাজসভার  কবি ছিলেন।তিনি ব্রজবুলি(বাংলা+মৈথিলি) নামক এক কৃত্রিম  সাহিত্যিক ভাষায়  পদ রচনা করতেন। বাংলা ভাষায় না লিখেও তিনি বাংলা সাহিত্যের আলোচিত  কবি।

👉 তাই  বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর অবাঙালি কবি বলা হয়।

➡️ ব্রজভাষা মথুরার ভাষা।

➡️ বিদ্যাপতির উপাধি হল – মিথিলার কোকিল,কবি কণ্ঠহার, অভিনব জয়দেব।

➡️ বিদ্যাপতির উক্তি –   এ ভরা বাদর  মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।

➡️পদাবলীর কবি জ্ঞানদাস ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য। তাঁর বিখ্যাত উক্তি –  “সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।“ “রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন  প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।”

➡️বৈষ্ণব পদাবলীর একজন সংগ্রাহক হলেন – বাবা আউল মনোহর দাস।

📒চৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য –

➡️শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন বৈষ্ণব  ধর্মের প্রচারক। শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবারে নব্দ্বীপে  জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে পুরীতে মারা যান। চৈতন্যের বাল্য নাম ছিল  নিমাই,দেহবর্ণের জন্য নাম হয় গোরা বা গৌরাঙ্গ,

➡️প্রকৃত নাম ছিল বিশ্বম্ভর,সন্ন্যাস গ্রহণের পর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, সংক্ষেপে  ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত হন। কারো জীবন নিয়ে যে সাহিত্য রচিত হয় তাকে জীবনী সাহিত্য  বা চরিত সাহিত্য  বলে।বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম চৈতন্যদেবের জীবনী নিয়ে সাহিত্য রচিত হয়। চৈতন্যদেবের মৃত্যুর  পর চৈতন্যদেবের  ভক্তরা তাঁর  জীবনী নিয়ে সাহিত্যর রচনা শুরু করে। চৈতন্যদেবের জীবন নিয়ে তাঁর যে ভক্ত সর্বপ্রথম সাহিত্য লিখেন তিনি হলেন –  বৃন্দাবন দাস এবং গ্রন্থটির নাম ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত’। তবে কৃষ্ণদাস কবিরাজের রচিত ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থটি চৈতন্য জীবনী  কাব্যের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাই  কৃষ্ণদাস কবিরাজকে চৈতন্য জীবনী কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলে।

➡️বাংলা সাহিত্যে একটি পংক্তি না লিখেও চৈতন্যদেবের নামে একটি যুগের সৃষ্টি  হয়েছে।

➡️বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য জীবনী গ্রন্থ ‘কড়চা’ নামে পরিচিত। ‘কড়চা’ শব্দের  শাব্দিক অর্থ ডায়রি বা দিনলিপি।

📒বাংলা সাহিত্যে  –   প্রাক চৈতন্য যুগ হল (১২০১-১৫০০খ্রি ) ও  চৈতন্য যুগ  হল(১৫০০-১৭০০খ্রি.)

➡️বাংলা ভাষার আগে সংস্কৃত ভাষায় চৈতন্য জীবনী গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
➡️সংস্কৃত   ভাষায় যিনি প্রথম চৈতন্য জীবনী গ্রন্থ লিখেন  –  মুরারি গুপ্ত।

➡️নবীবংশ, রসুল বিজয় – গ্রন্থগুলোর রচিয়তা হলেন সৈয়দ সুলতান।

📒প্রাক-আধুনিক যুগ (১৮০০খ্রিস্টাব্দ-১৯০০খ্রিস্টাব)-

➡️ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (জন্ম: ১৮১২ – মৃত্যু: ১৮৫৯) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙ্গালী কবি ও সাহিত্যিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর'(বা ‘সম্বাদ প্রভাকর’)এর সম্পাদক। কিন্তু  ব্যাপক ভাবে বলতে গেলে তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন কবি ও সাহিত্যিক। তাঁর হাত  ধরেই মধ্যযুগের গণ্ডি পেড়িয়ে বাংলা কবিতা আধুনিকতার পথে নাগরিক রূপ পেয়েছিল।  তিনি “গুপ্ত কবি” নামে সমধিক পরিচিত।

➡️রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ – ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ – ২২  শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)-

➡️রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব,কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা  হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ  ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও  ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২  খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডেচিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া  তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়  অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি  কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি  সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

➡️মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ – ২৯ জুন, ১৮৭৩)- মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঊনবিংশ  শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম  পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ ভারতের যশোর জেলার এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশে জন্ম হলেও মধুসূদন যৌবনে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে মাইকেল মধুসূদন নাম গ্রহণ করেন  এবং পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণবশত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায়  মনোনিবেশ করেন। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন আকৃষ্ট হন নিজের মাতৃভাষার  প্রতি। এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন। 

👉মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

👉তাঁর  সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে  রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

👉তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য  গ্রন্থাবলি: দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী  (নাটক),বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর  বধ ইত্যাদি। মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন। মাত্র ৪৯ বছর  বয়সে কলকাতায় কপর্দকশূন্য করুণ অবস্থায় মৃত্যু হয় এই মহাকবির।

📒বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জুন ২৭, ১৮৩৮- এপ্রিল ৮, ১৮৯৪)- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ  শতকের বাঙালি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তাঁর অসীম  অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন।
👉তাঁকে  সাধারণত প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার  ব্যাখ্যাদাতা হিসাবে, সাহিত্য সমালোচক হিসাবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি  জীবিকাসূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন।
👉তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র  বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
👉তিনি ছদ্মনাম হিসেবে কমলাকান্ত নামটি  বেছে নিয়েছিলেন

📒আধুনিক যুগ (১৯০০খ্রিস্টাব্দ-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ)-
কাজী নজরুল ইসলাম (মে ২৫, ১৮৯৯ – আগস্ট ২৯, ১৯৭৬),(জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ –  ভাদ্র ১২, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ)- অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম  জনপ্রিয়বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে  অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

বাঙালী মণীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন নজরুল। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক,  দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

📒শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৮৭৬-জানুয়ারি ১৬, ১৯৩৮)-জনপ্রিয়তম  বাঙালি কথাসাহিত্যিক। বাঙলা ছাড়াও তাঁর লেখা বহু ভারতীয় ও বিদেশী ভাষায় অনূদিত  হয়েছে। তিনি কখনও কখনও অনিলা দেবী ছদ্মনামে লিখতেন।

📒বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১২ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ – ১লা নভেম্বর, ১৯৫০)-ছিলেন  একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প  লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তাঁর সবচেয়ে বেশি পরিচিত  উপন্যাস।

📒জীবনানন্দ দাশ (ফেব্রুয়ারি ১৮, ১৮৯৯ – অক্টোবর ২২, ১৯৫৪; বঙ্গাব্দঃ ফাল্গুন ৬,  ১৩০৫ – কার্তিক ৫, ১৩৬১)-ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি  কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক। তাকে বাংলাভাষার “শুদ্ধতম কবি” বলে  আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

📒সুকুমার রায় (১৮৮৭ – ১৯২৩) (ইংরেজি ভাষা: Sukumar Roy)একজন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে “ননসেন্স রাইমের” প্রবর্তক।
👉তিনি  একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার। 
👉তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সন্তান এবং তাঁর  পুত্র খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
👉 তাঁর লেখা কবিতার বই আবোল তাবোল, গল্প হযবরল, গল্প সংকলন পাগলা দাশু এবং  নাটক চলচ্চিত্তচঞ্চরী বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা “ননসেন্স” ধরণের  ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়।

📒উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী (১০ই মে, ১৮৬৩ – ২০শে ডিসেম্বর, ১৯১৫)-বিখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক, বাংলা ছাপাখানার অগ্রপথিক। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক চিত্রকর, প্রকাশক, শখের জ্যোতির্বিদ, বেহালাবাদক ও সুরকার। সন্দেশ  পত্রিকা তিনিই শুরু করেন যা পরে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় ও পৌত্র সত্যজিৎ রায় সম্পাদনা করেন। গুপি-গাইন-বাঘা-বাইন, টুনটুনির বই ইত্যাদি তাঁরই অমর সৃষ্টি।  তাঁর পৈত্রিক নাম ছিল কামদারঞ্জন রায়।

📒অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩ – ২৯শে জানুয়ারি, ১৯৭৬)-একজন  বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক। পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম  হয়। তবে তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বর্তমান মাদারিপুর জেলায়। তাঁর বাবা  রাজকুমার সেনগুপ্ত নোয়াখালী আদালতের আইনজীবী ছিলেন। তাঁর স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ কল্লোল যুগ (১৯৫০) পাঠক-মহলে বেশ সাড়া জাগায়। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায়  বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জগত্তারিণী পুরস্কার, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫) ও  শরৎচন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫) লাভ করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ জানুয়ারি কলকাতায়  তাঁর মৃত্যু হয়।

📒সৈয়দ মুজতবা আলী (সেপ্টেম্বর ১৩, ১৯০৪ – ফেব্রুয়ারি ১১, ১৯৭৪) একজন বিংশ  শতকী বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক,  ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীগুলির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট।

📒সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট, ১৯২৬ – ১৩ই মে, ১৯৪৭)-বাংলা  সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ  কবি। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’  বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা  লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।তার কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের  বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ পাঠকদের সংকচিত করে তোলে। গণমানুষের প্রতি গভীর  মমতায় প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য  হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম  নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা  থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়।
👉সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী  লেখক ও শিল্পীসংঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা  করেন।

বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজন এর MCQ প্রশ্ন

প্রশ্ন: আধুনিক বাংলা ভাষার পরিধি কত সাল থেকে শুরু হয়েছে ?
উঃ ১৮০১ সাল থেকে। (প্রস্তুতিপর্বঃ ১৮০০-১৮৬০, বিকাশপর্বঃ ১৮৬০-১৯০০, রবীন্দ্রপর্বঃ ১৯০০-১৯৩০, রবীন্দ্রোত্তরঃ ১৯৩০-১৯৪৭ ও বাংলাদেশঃ ১৯৪৭-)
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে?
উঃ সপ্তম শতাব্দী।
প্রশ্ন: পানিনি রচিত গ্রন্থের নাম কি?
উঃ ব্যাকরণ অষ্টাধয়ী।
প্রশ্ন: পানিণি কোন ভাষার ব্যাকরণকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন?
উঃ সংস্কৃত ভাষা।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?
উঃ বৈদিক।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যিক নিদর্শন কি?
উঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষা কোন আদি বা মূল ভাষা গোষ্ঠীর অর্ন্তগত?
উঃ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠী।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে কোন দশকে?
উঃ খ্রিষ্টিয় দশম শতকের কাছাকাছি সময়ে।
প্রশ্ন: ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাচীন রূপ কোথায় পাওয়া যায়?
উঃ প্রাচীন গ্রন্থ ঋগে¦দের মন্ত্রগুলোতে।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় কখন থেকে?
উঃ আধুনিক যুগে।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় কখন থেকে?
উঃ আধুনিক যুগে।
প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে খ্রীষ্টপূর্ব কত পর্যন্ত বাংলা ভাষার অস্তিত্ব ছিল?
উঃ পাঁচ হাজার বছর।
প্রশ্ন: আর্য ভারতীয় গোষ্ঠীর প্রাচীনতম সাহিত্যেক ভাষার নাম কি?
উঃ বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার মূল উৎস কোন ভাষা?
উঃ বৈদিক ভাষা।
প্রশ্ন: বৈদিক ভাষা থেকে বাংলা ভাষা পর্যন্ত বিবর্তনের প্রধান তিনটি ধারা কি কি?
উঃ প্রচীন ভারতীয় আর্য, মধ্য ভারতীয় আর্য ও নব্য ভারতীয় আর্য।
প্রশ্ন: কোন ভাষা বৈদিক ভাষা নামে স্বীকৃত?
উঃ আর্যগণ যে ভাষায় বেদ-সংহিতা রচনা করেছেন।
প্রশ্ন: কোন ব্যাকরণবিদের কাছে সংস্কৃত ভাষা চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়?
উঃ ব্যাকরণবিদ পানিনির হাতে।
প্রশ্ন: সংস্কৃত ভাষা কত অব্দে চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়?
উঃ খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ দিকে।
প্রশ্ন: কোন ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে?
উঃ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ খ্রীঃ দিকে বৈদিক ভাষা বির্বতনকালীণ সময়ে জনসাধারন যে ভাষায় নিত্য নতুন কথা বলত।
প্রশ্ন: প্রাকৃত ভাষা বিবর্তিত হয়ে শেষ যে স্তরে উপনীত হয় তার নাম কি?
উঃ অপভ্রংশ।
প্রশ্ন: সুনীত কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উদ্ভর কোন অপভ্রংশ থেকে কোন সময় কালে?
উঃ পূর্ব ভারতে প্রচলিত মাগবী অপভ্রংশ এবং খ্রিষ্টিয় দশম শতকের কাছাকাছি সময়ে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়।
প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎস কোন অপভ্রংশ থেকে?
উঃ গৌড় অপভ্রংশ থেকে।
প্রশ্ন: কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
উঃ মাগধী প্রাকৃত।
প্রশ্ন: প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার স্তর কয়টি?
উঃ তিনটি।
প্রশ্ন: বৈদিক ভাষা হতে বাংলা ভাষায় বিবর্তনের প্রধান ধারা কয়টি?
উঃ তিনটি।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষা কোন গোষ্ঠীর বংশধর?
উঃ হিন্দ-ইউরোপী গোষ্ঠীর।
প্রশ্ন: কোন যুগে বাংলা লিপির গঠনকার্য স্থায়ীরূপ লাভ করে?
উঃ প্রাচীন যুগে।
প্রশ্ন: বাংলার প্রথম মুদ্রন প্রতিষ্ঠানের নাম কি ?
উঃ শ্রীরামপুর মিশন।
প্রশ্ন: কত সালে ‘শ্রীরামপুর মিশন’ প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উঃ ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন: বাংলা ছাড়া ব্রাহ্মী লিপি থেকে আর কোন লিপির উদ্ভদ ঘটেছে ?
উঃ সিংহলী, শ্যামী, নবদ্বীপি, তিব্বতী ইত্যাদি।
প্রশ্ন: বাংলা অক্ষর বা বর্ণমালা কোন সময়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার লাভ করে ?
উঃ খ্রিঃ দশম ও একাদশ শতাব্দীর মধ্যে।
প্রশ্ন: ব্রাহ্মী লিপির বিবর্তনের ধারায় কোন বর্নমালা থেকে বাংলা বর্নমালার উৎপত্তি ?
উঃ পূর্ব ভারতীয় বর্ণমালা কুটিল থেকে।
প্রশ্ন: ব্রাহ্মী লিপির পূর্ববর্তী লিপি কোনটি?
উঃ খরোষ্ঠী লিপি।
প্রশ্ন: ভারতীয় লিপিশালার প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
উঃ দুইটি।
প্রশ্ন: খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকে কোন শাসকের শাসনমালা ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ন পাওয়া যায়?
উঃ সম্রাট অশোক।
প্রশ্ন: বাংলা লিপি ও বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে কোন লিপি থেকে?
উঃ কুটিল লিপি।
প্রশ্ন: ব্রাহ্মী লিপির পূর্ববর্তী লিপি কোনটি ?
উঃ খরোষ্ঠী লিপি।
প্রশ্ন: কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয় ?
উঃ সেন যুগে।
প্রশ্ন: কোন কোন লিপির উপর বাংলা লিপির প্রভাব বিদ্যমান ?
উঃ উড়িষ্যা মৈথিলি ও আসামী লিপির উপর।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্যের বিকাশে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে-?
উঃ সাময়ীক পত্র।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন কি?
উঃ চর্যাপদ।
প্রশ্ন: চর্যাপদ রচনা করেন কারা ?
উঃ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন যুগের নিদর্শন?
উঃ আদি/ প্রাচীন যুগ।
প্রশ্ন: চর্যাপদের পুঁথিকে কোথা কে এবং কখন আবিস্কার করেন?
উঃ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭।
প্রশ্ন: চর্যাপদের রচনা কাল কত?
উঃ সপ্তম -দ্বাদশ শতাব্দী।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত হয়?
উঃ বঙ্গকামরুপী ভাষায়।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোথায় পাওয়া যায়?
উঃ নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগারে।
প্রশ্ন: টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে চর্যাপদের নাম কি ?
উঃ আশ্চর্য চর্যাচয়।
প্রশ্ন: নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলির কি নাম দেযা হয়েছে ?
উঃ চর্যাচর্য বিনিশ্চয়।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় কোন ভাষার?
উঃ মুন্ডা ভাষার।
প্রশ্ন: কোন লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব ঘটেছে?
উঃ ব্রহ্মী লিপি।
প্রশ্ন: ভারতীয় লিপিমালার প্রাচীনতম রূপ কয়টি ও কি কি?
উঃ দুইটি ক. খরোষ্ঠী, খ. বাহ্মী।
প্রশ্ন: ভারতের মৌলিক লিপি কোন লিপিকে বলা বলে?
উঃ ব্রাহ্মী লিপি।
প্রশ্ন: চর্যাপদের ভাষাকে কে বাংলা ভাষা দাবি করেছেন?
উঃ অধ্যাপক সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যয়।
প্রশ্ন: আধুনিকের পন্ডিতগণের মতে, নেপালে প্রাপ্ত চর্যাপদের পুঁথির নাম কি ?
উঃ চর্যাগীতি কোষ।
প্রশ্ন: চর্যার প্রাপ্ত কোন সংখ্যক পদটি টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যা হয় নি ?
উঃ ১১ সংখ্যক পদ।
প্রশ্ন: চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে কোন কোন সংখ্যক পদে সম্পূর্ন পাওয়া যায় নি ?
উঃ ২৪, ২৫, ৪৮ সংখ্যক পদ।
প্রশ্ন: চর্যার প্রাপ্ত কোন পদটির শেষাংশে পাওয়া যায় নি ?
উঃ ২৩ সংখ্যক পদ।
প্রশ্ন: চর্যাগীতিকা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক কবে প্রকাশিত হয়েছিল ?
উঃ ১৯১৬ সালে।
প্রশ্ন: চর্যা সংগ্রহটিতে সর্বসমেত কয়টি চর্যাগীতি ছিল?
উঃ ৫১ টি।
প্রশ্ন: চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ কে আবিস্কার করেন?
উঃ ডঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী।
প্রশ্ন: চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের নমুনা পরিলক্ষিত হয়?
উঃ পশ্চিম বাংলার প্রাচীনতম কথ্য ভাষার।
প্রশ্ন: ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যয় কবে চর্যাপদে ভাষা বাংলা বলে প্রমান করেন?
উঃ ১৯২৬ সালে।
প্রশ্ন: চর্যাপদের প্রতিপাদ্য বিষয় কি?
উঃ চর্যাপদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাদের গুহ্য সাধনতত্ত্ব এবং তৎকালীন সমাজ ও জীবনের পরিচয়।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত ?
উঃ মাত্রাবৃত্তে ছন্দে।
প্রশ্ন: চর্যাপদের পুঁথি নেপালে যাবার কারন কি?
উঃ তুর্কী আক্রমনকারীদের ভয়ে পন্ডিতগণ তাদের পুুথি নিয়ে নেপালে পালিয়ে গিয়ে শরনার্থী হয়েছিলেন।
প্রশ্ন: কীর্তিলতা পুরুষ পরীক্ষা বিভাগসার প্রভৃতি সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কে?
উঃ মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
প্রশ্ন: কবীন্দ্রবচন সমুচ্চয় ও সদুক্তি কর্ণামৃত কাব্য কোন যুগে রচিত?
উঃ সেনযুগে।
প্রশ্ন: সর্বসমেত কয়টি চর্যাগীতি পাওয়া গিয়েছে?
উঃ সাড়ে ছেচল্লিশটি।
প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশী পদ কে রচনা করেছেন ?
উঃ কাহ্নপা-১৩ টি।
প্রশ্ন: চর্যাপদের রচয়িতা কে বা কারা ?
উঃ কাহ্নপা, লুইপা, কুক্কুরীপা, ভুসুকু, সরহপাদ সহ মোট ২৪ জন।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন সময়ে রচিত হয় ?
উঃ সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে।
প্রশ্ন: চর্যাপদের পদগুলো কোন কোন ভাষায় রচিত বলে দাবি করা হয়?
উঃ বাংলা, হিন্দী, মৈথিলী, অসমীয় ও উড়িয়া ভাষায়।
প্রশ্ন: রাজা লক্ষন সেনের রাজসভার পঞ্চরত কে কে ছিলেন?
উঃ উমাপতিধর, শরণ, ধোয়ী, গোবর্ধন আচার্য ও জয়দেব।
প্রশ্ন: বাংলা ছাড়া কোন কোন বাব্যগ্রন্থে বাঙালী জীবনের চিত্র রয়েছে?
উঃ গাথা সপ্তপদী ও প্রাকৃত পৈঙ্গলের।
প্রশ্ন: চন্ডীদাস সমস্যা কি?
উঃ বাংলা সাহিত্য একাধিক পদকর্তা নিজেকে চন্ডীদাস পরিচয় দিয়ে যে স মস্যা সৃষ্টি করেছেন তাই চন্ডীদাস সমস্যা ।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যে স্বীকৃত চন্ডীদাস কয়জন?
উঃ তিনজন। বড়ু চন্ডিদাস, দীন চন্ডিদাস এবং দ্বীজ চন্ডিদাস।
প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্য কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়?
উঃ পশ্চিম বঙ্গের বাকুড়া জেলার কাকিলা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ীর গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করেন।
প্রশ্ন: বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে?
উঃ বড়ু চন্ডিদাস।
প্রশ্ন: আদি যুগে লোকজীবনের কথা বিধৃত সর্বপ্রথম সাহিত্যক নিদর্শন কোনটি?
উঃ ডাক খনার বচন।
প্রশ্ন: মধ্যযুুগের বাংলা সাহিত্যর প্রধান দুটি ধারা কি ?
উঃ ১। কাহিনীমূলক ও ২। গীতিমূলক।
প্রশ্ন: শ্রী চৈতন্যর নামানুসারে মধ্যযুগের বিভাজন কিরূপ?
উঃ চৈতন্য পূর্ববর্তী যুগ (১২০১-১৫০০ খ্রিঃ), চৈতন্য যুগ (১৫০১-১৬০০) ও চৈতন্য পরবর্তী যুগ (১৬০১-১৮০০)
প্রশ্ন: গীত গোবিন্দ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতার নাম কি ?
উঃ জয়দেব।
প্রশ্ন: ব্রজবুলি ভাষার বিখ্যাত সাহিত্যিকের/শ্রেষ্ঠ কবি নাম কি?
উঃ বিদ্যাপতি এবং জয়দেব।
প্রশ্ন: চৈতন্য পরবর্তী যুগ বা মধ্যযুগের শেষ কবি কে?
উঃ ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর।
প্রশ্ন: আধুনিক যুগের উদগাতা কে?
উঃ মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
প্রশ্ন: কোন যুগকে অবক্ষয়ের যুগ বলা হয় ?
উঃ ১৭৬০-১৮৬০সাল পর্যন্ত।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যর আধুনিক যুগের সময়কাল কয়পর্বে বিভক্ত ও কি কি?
উঃ চারটি পর্বে বিভক্ত। যেমন- ১. প্রস্তুতি পর্ব (১৮০১-১৮০৫)খ্রিঃ, ২. বিকাশ পর্ব (১৮৫১-১৯০০) খ্রিঃ, ৩.রবীন্দ্র পর্ব (১৯০১-১৯৪০) খ্রিঃ ও ৪.অতি-আধুনিক যুগ (১৯০১ বর্তমান কালসীমা)।
প্রশ্ন: আধুনিক যুগ কোন সময় পর্যন্তু বিস্তৃত?
উঃ ১৮০১ সাল থেকে বর্তমান।
প্রশ্ন: যুগ সন্ধিক্ষনের কবি কে ?
উঃ ঈশ্বরচন্দ্র দত্ত।
প্রশ্ন: ব্রজবুলী ভাষার উদ্ভব কখন হয়?
উঃ কবি বিদ্যাপতি যখন মৈথিল ভাষায় রাধাকৃষ্ণ লীলার গীতসমূহ রচনা করেন।
প্রশ্ন: ব্রজবুলি ভাষা কোন জাতীয় ভাষা?
উঃ মৈথলী এবং বাংলা ভাষার মিশ্রনে যে ভাষার সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন: ব্রজবুলি কোন স্থানের উপভাষা ?
উঃ মিথিলার উপভাষা ।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় রামায়ন কে অনুবাদ করেন?
উঃ কৃত্তিবাস।
প্রশ্ন: রামায়নের আদি রচয়িতা কে?
উঃ কবি বাল্মীকি।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় মহাভারত কে অনুবাদ করেন?
উঃ কাশীরাম দাস।
প্রশ্ন: মহাভারতের আদি রচয়িতা কে?
উঃ বেদব্যাস।
প্রশ্ন: গীতি কাব্যের রচয়িতা কে?
উঃ গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস।
প্রশ্ন: পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক কবি কে?
উঃ ফকির গরিবুল্লাহ।
প্রশ্ন: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
উঃ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যর প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
উঃ কাব্য।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্য সাহিত্য কখন শুরু হয়?
উঃ আধুনিক যুগে।
প্রশ্ন: আলাওল কোন যুগের কবি?
উঃ মধ্য যুগের।
প্রশ্ন: মধ্যযুগের অবসান ঘটে কখন?
উঃ ঈশ্বর গুপ্তের মৃত্যুর সঙ্গে।
প্রশ্ন: উনিশ শতকের সবচেয়ে খ্যাতনামা বাউল শিল্পী কে?
উঃ লালন শাহ।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্যের জনক কে?
উঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
প্রশ্ন: আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ প্রতিভু কে?
উঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষার আদি কবি ?
উঃ কানা হরিদত্ত।
প্রশ্ন: বাংলা গদ্যর উৎপত্তি কখন?
উঃ আঠার শতকে।
প্রশ্ন: কাঙ্গাল হরিনাথ কখন আবির্ভূত হন?
উঃ উনিশ শতকের শেষার্ধে।
প্রশ্ন: বিষাদসিন্ধু কোন যুগের গ্রন্থ?
উঃ আধুনিক যুগের।
প্রশ্ন: মধ্যযুগের অন্যতম সাহিত্য নিদর্শন কি?
উঃ পদ্মাবতী ও অন্নদামঙ্গল।
প্রশ্ন: চন্ডীদাস কোন যুগের কবি ?
উঃ মধ্যযুগের।
প্রশ্ন: আধুনিক বাংলা গীতি কবিতার সূত্রপাত?
উঃ টপ্পাগান।
প্রশ্ন: টপ্পা গানের জনক কে?
উঃ নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)।
প্রশ্ন: মীর মোশাররফ সাহিত্য ক্ষেত্রে আবির্ভূত হন?
উঃ উনিশ শতকের শেষার্ধে।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য ধারার অন্যতম মহাকবি?
উঃ মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যে গীতিকাব্য ধারার প্রথম কবি?
উঃ বিহারীলাল চক্রবর্তী।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নির্দশন কি?
উঃ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন।
প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনকাব্য কে রচনা করেন?
উঃ বড়– চন্ডীদাস।
প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্য কোন যুগের নিদর্শন?
উঃ চৈতন্যপূর্ব যুগ।
প্রশ্ন: বড়– চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্য কে উদ্ধার করেন?
উঃ বসন্তরঞ্জন রায়, ১৯০৯।
প্রশ্ন: উনিশ শতকের নাট্য সাহিত্য ধারার অন্যতম রূপকার?
উঃ মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
উঃ আলালের ঘরের দুলাল।
প্রশ্ন: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে?
উঃ প্যারীচাদ মিত্র।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্য কথ্যরীতির প্রবর্তক কে?
উঃ প্রমথ চৌধুরী।
প্রশ্ন: ছোটগল্পের আরম্ভে ও উপসংহারে কোন গুনটি প্রধান?
উঃ নাটকীয়তা ।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় প্রথম সামাজিক নাটক কোনটি ?
উঃ কুলীনকুল সর্বস্ব।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক ও নাট্যকার কে?
উঃ ভদ্রার্জুন- তারাচরণ সিকদার।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যর প্রথম সার্থক নাট্যকার কে?
উঃ মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যর প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি ?
উঃ কৃষ্ণকুমারী।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মূদ্রিত গ্রন্থ কোনটি?
উঃ ‘কথোপকথন’।
প্রশ্ন: বাংলা উপন্যাস সাহিত্য ধারার জনক?
উঃ বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন: রোমান্টিক প্রনয় উপাখ্যান ধারার অন্যতম কবি?
উঃ শাহ মুহাম্মদ সগীর।
প্রশ্ন: রোমান্টিক প্রণয় উপখ্যান ধারার অন্যতম গ্রন্থ?
উঃ ইউসূফ- জুলেখা।
প্রশ্ন: মঙ্গলকাব্যর ধারার অন্যতম কবি?
উঃ মুকুন্দরাম
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্য ছোটগল্পের প্রকৃত জনক?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন: ‘কথোপকথন’ এর রচয়িতা কে?
উঃ উইলিয়াম কেরি।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
উঃ নীল দর্পন।
প্রশ্ন: কোরআন শরীফ প্রথম বাংলায় অনুবাদ কে করেন?
উঃ ভাই গিরিশচন্দ্র সেন।
প্রশ্ন: বাংলা সনেটের জনক কে?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
প্রশ্ন: সনেটের জনক কে?
উঃ ইটালীর পেত্রাক।
প্রশ্ন: ‘গাজঅকালু ও চম্পাবতী’ কোন ধরনের সাহিত্য?
উঃ পুঁথি সাহিত্য।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের লোক সাহিত্যের বিখ্যাত গবেষক কে?
উঃ আশরাফ সিদ্দিকী।
প্রশ্ন: রূপকথা কে সংগ্রহ করেছিলেন?
উঃ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রধানত কয়টি যুগে ভাগ করা?
উঃ তিনটি। (প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও অধুনিক যুগ)
প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগের পরিধি কত পর্যন্ত বিস্তৃৃত ছিল?
উঃ ৬৫০-১২০০ সাল পর্যন্তু।
প্রশ্ন: মধ্য যুগের বাংলা ভাষার পরিধি কত সাল পর্যন্ত বিস্তৃৃত ছিল?
উঃ ১২০১-১৮০০ সাল পর্যন্তু।
➡️সংকলন-মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উক্তি ও প্রবক্তা

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উক্তি ও প্রবক্তা 📒রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১। ‘আজি হতে শত বর্ষে পরে কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *