প্রাচীন বাংলার জনপদ

প্রাচীন বাংলার জনপদ

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

📝প্রাচীন বাংলার সবগুলাে জনপদকে একত্র করেন- রাজা শশাঙ্ক। তিনি প্রাচীন বাংলার সবগুলাে জনপদকে ‘গৌড়’ নামে একত্র করে স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। রাজা শশাঙ্ক প্রথম স্বাধীন বাঙালি রাজা।

📝প্রাচীন বাংলার সবগুলাে জনপদ একত্রে “বাংলা” নামে পরিচিতি লাভ করে- সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে।

📝বাংলার সর্ব প্রাচীন জনপদ- পুন্ড্র।

📝বঙ্গ নামে দেশের উল্লেখ পাওয়া যায়- খিস্টপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্বে।

📝সর্বপ্রথম বঙ্গ দেশের নাম পাওয়া যায়- ঋগ্বেদের ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।

📝সুপ্রাচীন বঙ্গ দেশের সীমা উল্লেখ আছে- ড. নীহাররঞ্জন রায়ের ‘বাঙালির ইতিহাস’ গ্রন্থে।

📝বাংলার আদি জনপদগুলাের ভাষা ছিল- অস্ট্রিক।

📝রাজা শশাংকের শাসনামলের পরে বঙ্গদেশ যে কয়টি জনপদে বিভক্ত ছিল- ৩ টি।
যথা: পুণ্ড, গৌড়, বঙ্গ।

১। পুণ্ড : 

উত্তর বঙ্গের একটি জনপদ। বর্তমান রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা নিয়ে এই জনপদ ছিল।

২। গৌড়:

উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, মালদাহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ নিয়ে এই জনপদ গড়ে ওঠেছিল।

৩। বঙ্গ :

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গদেশ ‘বঙ্গ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমান ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, পাবনা, ময়মনসিংহ ঢাকা, কুষ্টিয়া নিয়ে ছিল বঙ্গ জনপদ। এই জনপদের সবটুকুই বাংলাদেশের অংশে পড়েছিল। বর্তমান রাজধানী ঢাকাও এই জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

📝 বঙ্গ ও গৌড় নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়- ৬ষ্ঠ শতকে।

📝প্রাচীনকালে ছােট বড় সবগুলাে জনপদ মিলে বাংলার প্রাচীন জনপদগুলাে মােট ১৬টি জনপদে বিভক্ত ছিল। এর মাঝে উল্লেখযােগ্য হলাে:

১৬টি জনপদে

চন্দ্রদ্বীপ:

বর্তমান বরিশাল জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এই জনপদ ছিল।

তাম্রলিপ্ত:

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলা।

বরেন্দ্র :

উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। ঐতিহাসিকেদের মতে, বর্তমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং দার্জিলিং ও কোচবিহারসহ গঠিত সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকা।

সমতট:

বঙ্গদেশের আদ্র-নিম্নভূমিকে সমতট হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নােয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠেছিল সমতট জনপদ।

রাঢ :

ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত (বর্ধমান) অঞ্চলকে রাঢ় বলা হয়।

হরিকেল:

পূর্বভারতের একটি জনপদ। এই জনপদটি বঙ্গদেশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান চট্টগ্রাম ও সিলেট হরিকেল জনপদের অংশ ছিল।

বিভিন্ন শাসনামলে বাংলার রাজধানী

শাসনামল- রাজধানী

প্রাচীন বাংলা- মহাস্থানগড়

সুলতানী আমল – সােনারগাঁও (প্রথম রাজধানী, ১৩৩৮-১৩৫২ সাল) গৌড় (দ্বিতীয় রাজধানী, ১৪৫০-১৫৬৫ সাপ)

মুঘল আমল – সােনারগাঁও, ঢাকা

মৌর্যযুগ – পাটলিপুত্র

মৌর্য বংশ – পাটলিপুত্র

গুপ্ত রাজবংশ – বিদিশা

পুণ্ড জনপদ – পুণ্ড্রনগর(বাংলার প্রাদেশিক)

সমতট জনপদ – বরকামতা (কুমিল্লা)

খড়গ – কর্মান্তবসাক (কুমিল্লা)

দেব রাজবংশ – দেবপর্বত (কুমিল্লা)

সেন আমল – নদীয়া/নবদ্বীপ

আলাউদ্দীন হােসেন শাহ – একডালা

গৌড় রাজ্যের – কর্ণসুবর্ণ

রাজা শশাঙ্কের – কর্ণসুবর্ণ

হর্ষবর্ধন – কনৌজ

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত – পাটলিপুত্র

সমুদ্রগুপ্ত – পাটলিপুত্র

ঈশা খা – সােনারগাঁও

বর্মদেব – বিক্রমপুর

লক্ষণ সেন – নদীয়া/নবদ্বীপ

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নঃ

📝 মৌর্যযুগে বাংলার রাজধানী ছিল- পাটলিপুত্রে (এটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত।

📝 মৌর্যযুগে বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী ছিল- পুণ্ড্রনগর (তথা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে)।

প্রশ্ন: ‘রাঢ়’ বলতে কোন অঞ্চলকে বােঝায়?

উঃ ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীর।

প্রশ্ন: ‘বরেন্দ্র বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বােঝায়?

উঃ বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে বােঝায়।

প্রশ্ন: ‘গৌড় বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বােঝায়?

উঃ বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়া জেলা।

প্রশ্ন: গৌড়ের রাজধানী কোথায় ছিল?

উঃ কর্ণসুবর্ণ।

প্রশ্ন:বঙ্গ’ বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বােঝায়?

উঃ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর জেলা।

প্রশ্ন: প্রাচীনকালে ঢাকা কোন জনপদের অধীনে ছিল?

উঃ বঙ্গ জনপদ।

প্রশ্ন: প্রাচীনকালে সমতট বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বােঝায়?

উঃ বৃহত্তর কুমিল্লা ও নােয়াখালী অঞ্চল।

প্রশ্ন: সমতটের রাজধানী কোথায় ছিল?

উঃ বরকামতা।

প্রশ্ন: প্রাচীনকালে ‘হরিকেল’ বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উঃ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলকে।

প্রশ্ন: প্রাচীনকালে ‘বাকেরগঞ্জ’ বলতে বর্তমানে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উঃ বরিশাল, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলকে।

প্রশ্ন: প্রাচীন কর্ণসুবণ’ বলতে কোন অঞ্চলকে বুঝায়?

উঃ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি গ্রামকে।

প্রশ্ন: প্রাচীন বাংলার ছােট ছােট অঞ্চলের নাম কী ছিল?

উঃ জনপদ।

প্রশ্ন: প্রাচীন বাংলা প্রধানত কয়টি জনপদে বিভক্ত ছিল?

উঃ তিনটি জনপদে।

প্রশ্ন: প্রাচীন বাংলা ভূখণ্ডের প্রধান জনপদগুলাের নাম কী?

উঃ গৌড় -(পু , বরেন্দ্র, রাঢ়), সূক্ষ্ম-(তাম্রলিপ্ত, সমতট), বঙ্গ-(বঙ্গাল, হরিকেল)

প্রশ্ন: রাজা শশাঙ্কের শাসনামলের পর বঙ্গ দেশ কয়টি জনপদে বিভিক্ত ছিল?

উঃ ৩টি । যথাঃ পুণ্ড, গৌড়, বঙ্গ।

প্রশ্ন: প্রাচীন বাংলার জনপদগুলাের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ কোনটি?

উঃ পুণ্ড।

প্রশ্ন: প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ পুরে রাজধানী কোথায় ছিল?

উঃ পুণ্ড্রনগর (বর্তমানে “মহাস্থানগড়’ নামে পরিচিত)।

প্রশ্ন: প্রাচীন জনপদ পু রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ বর্তমান বাংলাদেশের কোথায় পাওয়া যায়?

উঃ বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে।

প্রাচীন বাংলার কতিপয় বিখ্যাত গ্রন্থ ও রচয়িতা

গ্রন্থের নাম – গ্রন্থের রচয়িতা

অর্থশাস্ত্র – কৌটিল্য

মেঘদূত – মহাকবি কালিদাস

অভিজ্ঞান শকুন্তলম – মহাকবি কালিদাস

কামসূত্র – বাৎসায়ন

হর্ষচরিত – বানভট্ট

মহাভাষ্য – পতঞ্জলি

রামচরিতম – সন্ধ্যাকর নন্দী

বিদ্যাসুন্দর – শ্রীধর

ইন্ডিকা – মেগাস্থিনিস

দান সাগর – রাজা বল্লাল সেন।

অদ্ভুত সাগর – রাজা বল্লাল সেন (তবে তিনি গ্রন্থটির কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। এটির রচনার কাজ সমাপ্ত করেন তাঁর পুত্র লক্ষ্মণ সেন।

বৃহৎসংহিতা – বরাহ মিহির

নোট-মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী থেকে কেবল পরীক্ষায় আসার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *