জসীম উদ্দীন

জসীম উদ্দীন

⏺️জন্ম
মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা
১ জানুয়ারি ১৯০৩
তাম্বুলখানা, ফরিদপুর জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)

⏺️মৃত্যু
১৩ মার্চ ১৯৭৬ (বয়স ৭২)
ঢাকা, বাংলাদেশ

⏺️নাটকঃ
মনে রাখার কৌশলঃ (পদ্মা পাড়ের বেদের মেয়ে মধুমালার সাথে অন্য গ্রামের মেয়ে এক পল্লীবধূর বন্ধুত্ব সবার মুখে মুখে)

পদ্মাপাড়
বেদের মেয়ে
মধুমালা
পল্লীবধূ
গ্রামের মায়া

⏺️ উপন্যাস:
বোবা কাহিনী

⏺️ কাব্যঃ
মনে রাখার কৌশলঃ (হলুদ বরনীর দেশে হাসু , ডালিম কুমার, সখিনা ও সূচয়নী ভয়াবহ সেই দিনগুলোতে এক পয়সার বাশি বাজিয়ে ধানক্ষেতের বালুচরে মাটির তৈরী কবর জলে লেখা নকশী কাথার কাফন মুড়িয়ে সোজন বাদিয়ার ঘাটে এসে রাখালীর মা পল্লী জননী রঙ্গিলা নায়ের মাঝির জন্য কাঁদতে লাগল)

হলুদ বরনী,
জলে লেখন
হাসু,
নকশী কাথার মাঠ
ডালিম কুমার,
কাফনের মিছিল
সখিনা,
সোজন বাদিয়ার ঘাঁট
সূচয়নী,
রাখালীর মা
ভয়াবহ সেই দিনগুলোতে,
রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
এক পয়সার বাশি,
মা যে জননী কাদে
ধানক্ষেত
বালুচর
মাটির কান্না

⏺️গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন

➡️কাবগ্রহরাখালী: কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা কবির প্রথম গ্রন্থ।

➡️নকশী কাঁথার মাঠ: কবির শ্রেষ্ঠ কাহিনী কাব্য। প্রচলিত পল্লীগীতিকার চেয়ে ব্যতিক্রমী এ রচনাটিতে তিনি কাহিনির আবর্তনে অসম্ভব দক্ষতার পরিচয় দেন। গ্রন্থটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়।
➡️গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদের নাম “The Field of the Embroidery Quilt’ এবং এর অনুবাদক হলেন E.M Milford.

➡️কবি জসীম উদ্দীনের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের নাম কী কী?
➖ সােজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানখেত, মাটির কান্না, মা যে জননী কান্দে, সুচয়নী, রূপবতী।

➡️কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটকগুলাের নাম নাম কী কী?
➖বেদের মেয়ে (গীতিনাট্য), মধুমালা, গ্রামের মায়া, পল্লীবধূ, পদ্মাপার

➡️উপন্যাস: বােবা কাহিনী।

➡️শিশুতােষ গ্রন্থসমূহের নাম: এক পয়সার বাঁশি, হাসু।

➡️ভ্রমণ কাহিনি: চলে মুসাফির, যে দেশে মানুষ বড়, হলদে পরীর দেশ

➡️আত্মজীবনী: জীবনকথা *ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা), স্বাদের দেখেছি (স্মৃতিকথা)।

➡️গানের সংকলন: রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, গাঙ্গের পাড়, জারি গান।

➡️কবিতা: কবর কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। কবিতাটিতে মােট ১১৮ টি পঙক্তি রয়েছে। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। প্রিয়জন হারানাের মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ কবর’ কবিতার বিষয় মূল বিষয়বস্তু। কবি কবিতাটি রচনা করেন কলেজে পড়ার  সময় এবং তাঁর ছাত্রাবস্থায়ই কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।

➡️সুচয়নী কবি জসীম উদ্দীনের কী ধরনের রচনা?
➖নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ। (রবীন্দ্রনাথের ‘সঞ্চয়িতা ও নজরুলের ‘সঞ্চিতা’ গ্রন্থের মতাে)

⏺️বিস্তারিত
➡️জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬)  কবি, শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

➡️পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।

➡️শৈশবে ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলে জসীমউদ্দীনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়।
তারপর ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯২১), 
➡️রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই.এ (১৯২৪) ও বি.এ (১৯২৯)
➡️এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি এম.এ (১৯৩১) পাস করেন।

➡️জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
➡️স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে দীনেশচন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ কাজে তিনি নিযুক্ত হন।
➡️এমএ পাস করার পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে  রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী ছিলেন।
➡️১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। এখানে ➡️১৯৪৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করার পর ১৯৪৪ সাল থেকে তিনি প্রথমে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
➡️১৯৬২ সালে এখান থেকে ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে অবসর গ্রহণ করে তিনি ঢাকার কমলাপুরে নিজ বাড়িতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন।

➡️জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

➡️কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

➡️জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।

➡️তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:  নক্সী কাঁথার মাঠ (১৯২৯), সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩), রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫), মাটির কান্না (১৯৫১), সুচয়নী (১৯৬১), পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯), ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৭২), পদ্মাপার (১৯৫০), বেদের মেয়ে (১৯৫১), পল্লীবধূ (১৯৫৬), গ্রামের মায়া (১৯৫৯), ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (১৯৬১), জার্মানীর শহরে বন্দরে (১৯৭৫), স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮), বাঙালীর হাসির গল্প, ডালিম কুমার ইত্যাদি।

➡️তাঁর রচিত বাঙ্গালীর হাসির গল্প (দুই খন্ড, ১৯৬০ ও ১৯৬৪) ও বোবা কাহিনী (১৯৬৪) উপন্যাসটি সুখপাঠ্য।

➡️জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
➡️১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান।  জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

➡️তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং বাঙালীর হাসির গল্প  গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
➡️বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন জসীমউদ্দীনের কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনীই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে। এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

➡️জসীমউদ্দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী এবং এ ধরণের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। এরূপ মানসিকতার কারণেই ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে  রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিলে অনেকের মতো তিনিও এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
➡️তিনি বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলন (১৯৬৬-১৯৭১) এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক ছিলেন।

➡️জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি।
তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮),
➡️রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯),
➡️বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও ➡️স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
➡️তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন।
➡️১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান। 

➡️সংকলন-মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উক্তি ও প্রবক্তা

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উক্তি ও প্রবক্তা 📒রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১। ‘আজি হতে শত বর্ষে পরে কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *