ঈদ নয় শোক চলছে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে

সোমবার থেকে টানা পাঁচদিন অবরুদ্ধ থাকার ভারত শাসিত কাশ্মীরের মানুষজন শনিবার বিকেলে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন। মূলত ঈদের কেনাকাটা করার জন্য শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। শ্রীনগরে শাটারও উঠেছিল কিছু কিছু দোকানপাটের। বেশ কিছু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, শুধু ঈদের উপহারই নয় – নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও।

কোরবানির পশু বেচতে শ্রীনগরের একটি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক কাশ্মীরি যুবক। কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে নিয়ে বিবিসির সংবাদদাতা দিলনওয়াজ পাশাকে ঐ যুবক বলেন, এটি কোনো ঈদ নয়, এটি এবার শোক। গত দুই দিন আমরা তেমন কিছু করিনি। ঈদের পর আমরা ৩৭০ ফিরিয়ে আনবো। এটা কাশ্মীর। এটা আমাদের ভূমি।

তার দাবি, যখনই মুসলমানদের কোনো উৎসব আসে, তখনই কোনো না কোনো গণ্ডগোল তৈরি হয়। ভারতকে বুঝতে হবে, এটা আমাদের জন্য একটি বড় দিন …এটি আত্মত্যাগের দিন, সুতরাং আত্মত্যাগ করবো। দুদিন পর দেখবেন, এখানে কী হয়।

ঈদের আগে কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্রামের বহু খামারি এবার শহরে গিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারছেন না। তারা বিরাট সঙ্কটে পড়েছেন।

শ্রীনগরের রাস্তায় একজন খামারি বললেন, এবার কোনো ব্যবসা নেই। আমার মনে হয়না এবার কোনো পশু বিক্রি করতে পারবো। সকাল থেকে না খেয়ে আছি।

শনিবার কারফিউ শিথিল করার পর কিছু ফেরিওয়ালা ঠেলাগাড়িতে ফল, সবজি সাজিয়ে ফেরি করতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তাদের ছবি তোলার সময় একজন কাশ্মীরি যুবক পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলেন, বাইরের বিশ্বকে কী দেখাতে চান আপনারা – শ্রীনগর প্রায় স্বাভাবিক? কাশ্মীরিরা ফল-সবজি কিনছে?

ঠিক সেসময় সেখানে একটি পাথরের টুকরো এস পড়ে। তারপর আরো পাথর এসে পড়তে থাকে। ফেরিওয়ালারা দ্রুত তাদের ঠেলাগাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

তবে সৈন্যদের ব্যাপক উপস্থিতির ভেতরে শনিবার কিছু কিছু জায়গায় বেশ মানুষ জড় হয়। অনেক গাড়ি বের হয়। শ্রীনগরে এখন কার্যত প্রতি একশ পায়ের মধ্যে ভারি অস্ত্র হাতে সৈন্য।

দিল্লিতে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ বলেন, ঈদের কথা মাথায় শনিবার কারফিউ কিছু শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু গত দুদিনে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিক্ষোভের খবরাখবর, ফুটেজ, ছবি প্রচার হওয়ার ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আবারো তাদের অবস্থান শক্ত করছে।

বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের সোউরা এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের খবর ও ভিডিও সামনে আসতে শুরু করে।

সেই ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায় জনতা আজাদির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে, ৩৭০ ধারার বিলোপ মানি না লেখা ব্যানার তুলে ধরছে। পুলিশের ফায়ারিং ও কাঁদানে গ্যাসের শেল চার্জ করারও প্রমাণ ছিল ওই ভিডিওতে। এর পরই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় কারফিউ-র কড়াকড়ি আবার নতুন করে বহাল করা হবে।

Check Also

ভারতে কোভিড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৫

ঢাকাঃ ভারতে একটি কোভিড হাসপাতালে আগুন লেগে ৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও অনেকেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *