আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন- ১

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন- ১

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো)

United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization (UNESCO)

UNESCO-এর সদর দপ্তর ফ্রান্সের প্যারিসে।

১৯৪৫ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি ৪ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের মর্যাদা লাভ করে।

এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৩ টি।

১৯৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র UNESCO ত্যাগ করেছিল।
সংস্থাটি বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা’ ঘোষণা করে।

সর্বশেষ সদস্য ফিলিস্তিন। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সর্বশেষ ইউনেস্কো ত্যাগ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO)

WHO জাতিসংঘের একটি সহযোগী সংস্থা বা এজেন্সি।

WHO ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই ৭ এপ্রিল হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

সংস্থাটির প্রধান কর্মক্ষেত্রে হলো আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করা।

এর সদর দপ্তর হলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

বিশ্ব থেকে পোলিও নির্মূলের জন্য ১৯৮৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং রোটারি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে।

সদস্য সংখ্যা ১৯৪।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (United Nations Programme – UNDP)

UNDP জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি সহায়ক সংস্থা।
এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২১ নভেম্বর, ১৯৬৫।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন কাজে সমন্বয় করা, উন্নয়নশীল দেশসমূহে সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার এবং সমপ্দ আরোহণে সাহায্য করা এই সংস্থার উদ্দেশ্য।

জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে UNDP।
তাই UNDP কে জাতিসংঘের বহুমুখী কারিগরি ও প্রাক-বিনিয়োগ সহযোগিতা বাস্তবায়নের সর্ববৃহৎ মাধ্যম বলা হয়।
UNDP এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত।

Least Development Country – LDCs (স্বল্পোন্নত দেশসমূহ)

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকের নিম্নস্তরের দেশসূমূহ (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত।স্বল্পোন্নত দেশ মোট ৪৮ টি।

তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা দেশসমূহ

দেশ                     বেরিয়ে আসার সাল

বতসোয়ানা             ১৯৯৪

কেপভার্দে               ২০০৭

মালদ্বীপ                ২০১১

সামোয়া                ২০১৪

United Nations Children’s Fund – UNICEF (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)

ইউনিসেফ জাতিসংঘে একটি বিশেষ সংস্থার নাম।এটি শিশুদের অধিকার, শিশুদের উন্নতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে।

১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।

জাতিসংঘের শিশু সনদ অনুযায়ী ‘শিশু’র বয়স ০-১৪ বয়স।
১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর নিইউয়র্ক সিটিতে ‘আন্তর্জাতিক শিশু সনদ’ গৃহীত হয়।

International Labour Organization – ILO (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা)

ভার্সাই সনদের চুক্তি অনুযায়ী ১৯১৯ সালের ১১ এপ্রিল ILO – আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৬ সালে সংস্থাটি জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
এই সংস্থাটি সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি মানবাধিকার এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত।
সদস্য সংখ্যা ১৮৭ দেশ।
সর্বশেষ সদস্য দেশ টোঙ্গা।

Intergovernment Panel on Climate Change (IPCC)

আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC)
১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP) ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা (WMO) এর মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।

IPCC জাতিসংঘের একটি পরিবেশবাদী সংস্থা।

এটি বৈশ্বিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে থাকে।

Millennium Development Goals – MDGS (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা)

২০০০ সালে ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত
জাতিসংঘের সহস্রাব্দ র্শীষ সম্মেলন (Millennium  Summit of the United Nations) ৮ টি লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয় এবং লক্ষ্যসমূহ অর্জনের সময়সীমা ২০১৫ সাল নির্ধারণ করা হয়।
এ সম্মেলনের ঘোষনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কতৃর্ক গৃহীত হয়।
জাতিসংঘের ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের দারিদ্র অর্ধেক কমিয়ে আনতে হবে।

Goals (লক্ষ্যসমূহ)

চরম দারিদ্য ও ক্ষুদা নির্মূল করা
সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন এর উন্নয়ন।
শিমু মৃত্যুর হার হ্রাস করা
মায়ের স্বাস্থের উন্নয়ন
এইচ.আই.ভি/এইডস, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম
পরিবেশগত সহনশীলতা নিশ্চিতকরণ
উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি

শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ MDG – 2010 পুরস্কার পায়।

Sustainable Development Goals – SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা)

জাতিসংঘ সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG) – এর সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্ধারণ করা হয় নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG)। 

এটি সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা MDG ‘র মতো জাতিসংঘ্য কতৃর্ক গৃহীত আরেকটি উন্নয়ন প্রক্রিয়া।

৩-১৪ জুন ১৯৯২ ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তি হয় ২০১২ সালের জুনে।

এ লক্ষ্যে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে ২০-২২ জুন, ২০১২ অনুষ্ঠিত হয় ‘রিও+২০’ (Rio+20)বা ‘আর্থ সামিট ২০১২’ (Earth Summit 2012)সম্মেলন যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন’ বা World Sustainable Development Conference –WSDC।

এ সম্মেলনে সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG)’র ওপর ভিত্তি করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা ‍ Sustainable Development Goals – (SDGs) গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া এজেন্ডা -২১ সম্মেলনেই গৃহীত হয়েছিল যাতে বিশ্ব জল দিবস পালনের প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপিত হয়।

17 Goals (১৭ টি লক্ষ্য)

সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্য র্নিমূল করা।
ক্ষুধা মুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টির লক্ষ্য অর্জন এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা চালু।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য কল্যাণ করা।

সকলের জন্য ন্যায্যতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ।

সকল নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা অর্জন।
সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন – এর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।

সকলের জন্য সহজলভ্য সুবিধাজনজক, নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল ও আধুনিক জ্বালানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা।

স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং পূর্ণকালীন উৎপাদনমূলক ও কাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরি।

মনোরম স্থাপনা নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থিতিশীল শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।

রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ।

মানববসতি ও শহরগুলোকে নিরাপদ, মনোরম ও স্থিতিশীল রাখা।

উৎপাদন ও ভোগ – এর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ।

সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষন এবং টেকসইভাবে সেগুলোকে ব্যবহার।

স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষন ও উন্নয়নকরা, মরুকরণ প্রশমিত করা ও জমির ক্ষয়রোধকরণ ও জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষতি কমানো।

শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ বিনির্মাণ ত্বরান্বিতকরণ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণ ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা আনয়ন করা।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা (World Trade Organization- WTO)

Bretton woods Conference (ব্রেটন উডস সম্মেলন): ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউহ্যাম্পশায়ারে ব্রেটন উডস নামক স্থানে IBRD তথা বিশ্বব্যাংক, IMF, ITO(International Trade Organization)গঠনের ব্যাপারে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৪৫ সালে গঠিত হয় IBRD বা World Bank যা ১৯৪৬ সালে যাত্রা শুরু করে
এবং ১৯৪৫ সালে IMF প্রতিষ্ঠিত হয় যা ১৯৪৭ সালে যাত্রা শুরু করে।

ITO এর পূর্বে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় GATT(General Agreement on Tariffs and Trade)।
এটি প্রতিষ্ঠিত হয় শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করে মুক্ত বাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষে।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত গ্যাটের ৮ রাউন্ড আলোচনা করা হয়।এর মধ্যে ১৯৮৬-৯৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ বছর ধরে চলা উরুগুয়ে রাউন্ড ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এই রাউন্ডের পরেই ১৯৯৫ সালের ১ লা জানুয়ারী GATT পরিবর্তিত হয়ে ITO(International Trade Organization)এ রুপ নেয়।

বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালে ১ জানুয়ারী এর সদস্যপদ পায়।

বাংলাদেশ এর ১২৪ তম সদস্য।

এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৬৪ টি।

সর্বশেষ সদস্য আফগানিস্থান।

WTO এর সদস্যদেশ তাইওয়ানের সার্বেভৌমত্ব নেই।

WTO এর সর্বশেষ সম্মেলন হয় ইন্দোনেশিয়ায়।

WTO এর দোহা রাউন্ড চলছে ২০০১-বর্তমান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund-IMF)

১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর IMF প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সালে ১ মার্চ IMF  কার্যক্রম শুরু করে।

IMF এর সদর দপ্তর –ওয়াশিংটন ডিসি,যুক্তরাষ্ট্র।

কাজঃ

International Organization for the global financial system. আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সংস্থা।

Stabilize currency exchange rate মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা।

Correcting unfavourable Balance of Payment. নেতিবাচক বানিজ্য ভারসাম্য সংশোধন

SDR – Special Drawing Rights

IMF এর রিজার্ভ সম্পদের আর্থিক একক।

SDR is the monetry unit of the reserve assets of IMF. SDR সুবিধা প্রবর্তনের জন্য ১৯৬৯ সালে  IMF  এর গঠনতন্ত্র(Articles)সংশোধন করা হয়।

IMF এর সদস্য সংখ্যা ১৯০ টি।

এর সর্বশেষ সদস্যদেশ এন্ডোরা।

এর বর্তমান মহাসচিব ফ্রান্সের ক্রিস্টিনা লাগার্ড।

Food and Agricultural Organization (FAO) – খাদ্য ও কৃষি সংস্থা

FAO ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।

এ জন্য ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস।

এর সদর দপ্তর ইতালির রোমে।

সদস্যদেশ ১৯৭টি।

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ

বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬ তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ পায়।

জাতিসংঘের ২৯ তম অধিবেশেনে বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে।

এই অধিবেশন চলাকালে ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধানণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১ তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন হুমায়ন রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশ ১৯৭৮ (১৯৭৯-৮০ সালের জন্য) এবং ১৯৯৯ (২০০০-০১ সালের জন্য) সালে দুইবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বশেষ আনোয়ার – উল- করিম চৌধুরী নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করেন।

জাতিসংঘে বর্তমানে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুম বিন মোমেন।

১৯৪৮ সালে প্রথম জাতিসংঘ প্রথম ফিলিস্থিনে শান্তি রক্ষা কার্যক্রম শুর করে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ‍মিশনে সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ ২য়।

১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান মিশনে (UNMOG) প্রথম অংশ নেয়।
বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৫৪টি শান্তি মিশনে অংশ নিয়েছে।
বিশ্বে বর্তমানে ১৬টি শান্তি মিশন কার্যক্রম চলছে যার ১২টিতে বাংলাদেশি সৈন্য কর্মরত আছে।

জাতিসংঘের প্রথম মিশন UNTSO (১৯৪৮) এবং সর্বশেষ মিশন  MISCA।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের চাঁদার হার ০.০১%।

বাংলাদেশের আমিরা হক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি নিযুক্ত হন।

জাতিসংঘ ২০১৮ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাষী ভাষা বর্ষ বলা হয়।

জাতিসংঘ ও এর সংস্থা কতৃর্ক শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ:

1.UNHCR -1954, 1981

2.UNICEF -1965

3.ILO – 1969

4.UNO – 2001

5.UN PEACE KEEPING FORCE – 1988

6.IAEA – 2005

7.IPCC – 2007

মোহাম্মদ আল বারাদী IAEA এর মহাপরিচালক হিসেবে পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ
এবং এই শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ২০০৫ সালে তাকে
এবং IAEA কে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

জাতিসংঘের ঘোষিত শীর্ষ সম্মেলন Cop 21 অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে।

COP অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে মরক্কোর মারাকাশে এবং COP 23 অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির বন এ ২০১৭ সালে নভেম্বরে।

COP 24 অনুষ্ঠিত হয় পোল্যান্ডের কাটোসিতে। COP মানে Conference Of Parties. COP আয়োজন করে থাকে UN Framework convention on Climate Change (UNFCCC). UNFCCC প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে।

জাতিসংঘের পতাকায় আছে হালকা নীলের উপর সাদা রঙ্গের জাতিসংঘের প্রতীক।
জাতিসংঘের প্রতীকের মাঝখানে পৃথিবীর মানচিত্র।

দুইপাশে দুটি জলপাই গাছের শাখা।জলপাই গাছ শান্তির প্রতীক।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় জাপানের টোকিওতে অবস্থিত।

শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব
শান্তির জন্য ঐক্য প্রস্তাব (The Uniting for Peace Resolution) হলো বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কতৃর্ক গৃহীত একটি শান্তি প্রস্তাব।

১৯৫০ সালে কোরীয় শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্যের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে উক্ত সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এটি অনুমোদন দেয়।

জাতিসংঘের সনদ মতে নিরাপত্তা পরিষদের কোন স্থায়ী সদস্য পরিষদে আলোচিত প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করলে উক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয় না।

তাই নিরাপত্তা পরিষদের ৫ টি স্থায়ী সদস্যের মতানৈক্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং তার ভীতি প্রদর্শন বা আগ্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরেধে ব্যর্থ হলে এ প্রস্তাবের ক্ষমতা বলে সাধারণ পরিষদ ২৪ ঘন্টার মধ্যে জরুরী সভা আহ্বান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

সুতরাং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত প্রস্তাবটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

Responsibility to Protect (R2P or RtoP)
‘আরটুপি’তত্ত্ব মূলত জাতিসংঘ কতৃর্ক উদ্ভাবিত ও অনুমোদিত।
২০০৫ সালে জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে এ তত্ত্ব গ্রহণ করা হয়।
এই তত্ত্বের মূল কথা হচ্ছে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণকে গণহত্যা থেকে রক্ষা করা এবং তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
সাধারণ ক্ষেত্রে আরটুপি তত্ত্ব সামরিক অভিযান কিংবা হামলার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয় (লিবিয়া, সিরিয়া, সুদান)।
কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিবাদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করে সেখানে নিরপরাধ মানুষদের হত্যার হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
আরটুপি’র ১৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার জনগণকে সব ধরনের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান থেকে রক্ষা করবে।
এ ধরনের অপরাধ যাতে না ঘটে তা দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
আরটুপি’র ১৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘের মাধ্যমে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান, মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে কূটনৈতিক, মানবিক উদ্যোগসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
উদ্দেশ্য জনগণকে গণহত্যা থেকে রক্ষা করা। আরটুপি তত্ত্বের সাথে `Humanitarian Intervention – এর প্রশ্নটিও জড়িত।
এর ব্যাখায় বলা হয়েছে, মানবিকতা রক্ষার নামে যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সমর্থনযোগ্য।

তাইওয়ান ১৯৭১ সালে চীনের কাছে সদস্যপদ হারায়।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় জাপানের টোকিওতে অবস্থিত।

নোট মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক প্রশ্ন জাতিসংঘের পূর্বে ’লীগ অব নেশনস’ এর জন্ম কোন সালে? উঃ ১৯২০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *